বাংলাদেশে ২০-২৪ বছর বয়সী প্রায় অর্ধেক নারীরই বিয়ে বাল্যকালে: ইউনিসেফ

আপলোড সময় : ২১-১০-২০২৬ , আপডেট সময় : ২১-১০-২০২৬
বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে দেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৪৭ দশমিক ২ শতাংশেরই বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে। এমনকি ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে মাত্র ১৫ বছর বয়স হওয়ার আগেই।
‘বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫’-এর তথ্য উদ্ধৃত করে গতকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই চিত্র তুলে ধরেছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। 
বাংলাদেশে তিন দিনের সফর শেষে শিশুদের কল্যাণে তিনটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল। তার সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১. বাল্যবিবাহ বন্ধ করে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা। ২. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ বিনিয়োগের সরকারি অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়ন করা। ৩. রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। 
ইউনিসেফ প্রধান উল্লেখ করেন, বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে অল্প বয়সে গর্ভধারণসহ নানা জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি। এতে তাদের শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
সফরকালে ক্যাথরিন রাসেল ঢাকার কড়াইল বস্তির পরিবারগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বাল্যবিবাহ থেকে বেঁচে যাওয়া ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী ‘বুশরা’র উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘ইউনিসেফ পরিচালিত শিশু সুরক্ষা কেন্দ্র ও স্থানীয় কমিউনিটি নেতাদের যৌথ প্রচেষ্টায় বুশরাকে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।’ 
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তা কেবল তাদের নিজেদের নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের সার্বিক উন্নতির পথ সুগম করবে।’ 
সফরকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে ইউনিসেফ প্রধান বলেন, ‘বাজেটের মধ্য দিয়েই সরকারের অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষায় বিনিয়োগ মানেই বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ।’
পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির কারণে রোহিঙ্গা শিশুরা ইতোমধ্যে অনেক কিছু হারিয়েছে, তাদের অন্তত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে দেওয়া যাবে না।’ এই শিশুদের পাশাপাশি স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর কল্যাণেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। 

সম্পাদকীয় :

Editor: Mostafizur Rahman (মোস্তাফিজুর রহমান).

Published by: Bangla Biggapon USA Inc. 4315. 12  AVE # D-4 Brooklyn NY- 11219.

Email: dailyjugandhar@gmail.com. Call: 929-462-3348. Tell: +17188533605

অফিস :